প্রেক্ষাপট ১৯৭১: 

৭ই মার্চ। তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামীলীগ মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন। সেসময় তা সরাসরি সম্প্রচারের মূল মাধ্যম ছিলো রেডিও। রেডিওর লোকজনও সবাই যন্ত্রপাতি সব ঠিক করে প্রস্তুত। কিন্তু ভাষণ শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আর্মি কমান্ড থেকে নির্দেশ এলো, ভাষণ সম্প্রচার এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে। নইলে রেডিও স্টেশন উড়িয়ে দেয়া হবে। (সূত্রঃ প্রত্যক্ষদর্শী, লুকিয়ে এই ভাষণ যিঁনি রেকর্ড করেছিলেন, সেই নাসার আহমেদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত ব্লগ)।

প্রেক্ষাপট ২০১২:

১২ই মার্চ। বর্তমান বিরোধীদল মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে। বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া সেখানে ভাষণ দিবেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লোক তা সরাসরি সম্প্রচারের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সম্প্রচার শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে ফোনে নির্দেশ এলো, সম্প্রচার এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে। নইলে মুশকিল হয়ে যাবে। (সূত্রঃ প্রথম আলো)।

দুই প্রেক্ষাপটের মিল:

দুই নেতাই তখনকার ক্ষমতাসীন সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ক্ষমতাসীন দল নৈতিকভাবে দুর্বল ছিলো, তাই যতোভাবে সম্ভব এসব বক্তব্যের প্রচার বন্ধ করার চেষ্টা করেছে।

সেসময় দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে স্বয়ং শেখ মুজিবর রহমান পর্যন্ত দুঃখ করে বলেছিলেন যে তার চারপাশে সব চোর। আর এবারও সরকারের কর্মকান্ড চৌর্যবৃত্তিখ্যাত বিএনপি-কেই ক্ষমতায় জোর করে এনে বসাবে বুঝা যাচ্ছে।

পার্থক্য:

সেসময় অগনতান্ত্রিক আর্মি নিয়ন্ত্রিত সরকার ক্ষমতায় ছিলো। বর্তমানে আমাদের ভোটে পাশ করা গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়।

সেসময় আওয়ামীলীগ নির্বাচনে বিজয় লাভের পরেও তাকে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছিলো না। বর্তমানে বিএনপি বিরোধী দল, তবে পরবর্তী নির্বাচনের আগেই ক্ষমতায় ফিরে আসতে অতীব উদ্গ্রীব।

উপসংহার:

স্বৈরশাসক কিংবা গনতান্ত্রিক সরকার, যে-ই আমাদের দেশে ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আচরণে দু'দলই পুরো এক। ক্ষমতাসীনের অত্যাচারেই প্রতিবার আমাদের দেশে চোরের দল ক্ষমতায় বসার সুযোগ পায়। আর দুর্ভোগ সব পোহায় জনগন।

 

পাদটীকাঃ উন্নবনতি - যাহা একই সাথে উন্নতি এবং অবনতি দুইয়ের সূচক।