মিমি

অক্টোবর ২৩, ২০১২, ০১:৩৫

 

রইস ভাই,

আজ মন বিষণ্ণ গত ২ দিন ধরে শরীর এক্তুখারাপ থাকায় পুজোর  সময় এমনিতেই মনটা খারাপ তার ওপর গতকাল মাঝরাতে একটিদুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলো সেই তখন থেকেই মনে হচ্ছিল কেন এমন দেখলাম ? তবে কি কারো মৃত্যু সংবাদ পাবো ? আবার এমনও ভাবছি যে শরীর ঠিক নেই তাই হয়তআবোল তাবোল স্বপ্ন দেখলাম রাতে আর ভাল ঘুম হল না , আজ সকালে জানতে পারলামসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আর নেই


এক্তু স্মৃতিচারণ করতে ইচ্ছে হচ্ছেতাই জানাই আপনাকে অনেক ছোট বয়স থেকে চিনি ওনাকে এক সময় একটি কথাকলকাতায় খুব-ই শোনা যেত " মধ্যরাতের কলকাতা শাসন করে চার যুবক " তারা হলেনসুনীল , শক্তি শরৎ ও সন্দীপন এই সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে আমারমেসোমশাই ছিলেনসেই সুবাদে আমি সুনীল্বাবু কে দেখেছিলাম অনেক ছোট ছোটস্মৃতি আজ মনে পরে যাচ্ছে ওনাদের সেই বোহেমিয়ান জীবনের নানান গল্প , হঠাৎকরে বেড়াতে চলে যাওয়া এমন অনেক গল্প

আমি আজ সারাদিন ই টিভি রসামনে বসে ছিলাম সেখানেই শুনলাম শরীর টা একটু খারাপ লাগছিলো হয়ত সেইকারনেই পরে গিয়েছিলেন উনি ই না কি বলেছিলেন স্ত্রী কে অত রাতে নার্সিংহোমে না গিয়ে আজ সকালে যাবেন কিন্তু তা আর হল না

ইশ্বারের কাছে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি

আপনাকেও ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য

উত্তর দিন | অভিযোগ

মিমি

অক্টোবর ২৩, ২০১২, ০১:৫৫

 

রইস ভাই,

আরও একটা কথা , আমি খুব ভালো কিছু লিখতেপারি না কেবল মনের আনন্দে এলোমেলো ভাবে কিছু লেখার চেষ্টা করি আপনারমন্তব্য বা আপনার লেখা আমার খুব ই ভালো লাগে তাই সাহস করে একটা কথা বলছি , যদি অনুগ্রহ করে আপনি একবার কবিতার আসরে গিয়ে আমার লেখা "নীরা যেও না"কবিতাটি পড়েন তবে আমার খুব ই ভালো লাগবে


ভালো থাকবেন

 

 

নীরা যেও না

- মিমি

ভূমিকা...... এই কবিতা টি সম্পর্কে দু একটি কথা বলা প্রয়োজন এইচরিত্রটি সকলের কাছেই খুব পরিচিত একজন কবি আর  তাঁর সৃষ্টির মাঝেযখন  দূরত্ব এসে যায় তখন সেই অসহায়তা  পাঠক পাঠিকার সাথে ভাগ করলে কবিশান্তি পান ...(আমার একান্ত নিজস্ব মতামত)

নীরা, নীরা, কোথায় তুমি ? আজকাল আর তোমায় স্পর্শ করতে পারি না কেন
?
তুমি তো আমারই সৃষ্টি
,
আজ আমি জীর্ণ, শীর্ণ ; কিন্তু তুমি তো চিরযুবতী

তোমাতে অবগাহন করে আমিও অনন্ত যৌবন চেয়েছিলাম
|
তুমি আমায় অনেক দিয়েছ
,
ভরিয়ে দিয়েছ আমার জীবন, আমার যৌবন

আজ আমার পৌরুষ ফুরিয়েছে

তাই কী তুমি আমায় চিরকালের মতন ত্যাগ করলে
?
তুমি কোথায় গেলে নীরা
?
তোমায় আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ চেনে

আমি তো তোমার মধ্যেই বেঁচে থাকবো
|
বহু মানুষ শুধু নীরাকে কল্পনা করে বেঁচে থাকতে চেয়েছে

তুমি কোথায় গেলে নীরা
?
আর কী ফিরবে না
?
তোমার না ফেরা মানে তো আমার ফুরিয়ে যাওয়া
;
নীরা, নীরা, সাড়া দাও ; মুখ ফিরিয়ে থেকো না

দীর্ঘ জীবন পেরিয়ে এসে আমি আজ যে একটু শান্তি চাই নীরা
,
তোমার কাছেই শান্তি চাই
|
শেষের সেই দিনটাকে সানন্দে বরণ করে নিতে চাই

তাই শেষবারের মতন তোমাতে মিলিত হতে চাই
;
তৃপ্ত হতে চাই

সাড়া দাও নীরা, সাড়া দাও|

কবিতাটি ৫৫ বার পঠিত হয়েছে


মন্তব্যসমূহ

অনেক ধন্যবাদ পল্লবযখন ভালবাসা হারিয়ে যায় তখনই ত এমনঅনুভূতি আসেতাই না? যদিও এটা আমার ধারনা, বাকিরা কি বলবেন তারঅপেক্ষায়  রইলাম ভাল থেকো

"তোমার না ফেরা মানে তো আমার ফুরিয়ে যাওয়া"... অদ্ভুত সুন্দর কাব্যিক কথা!!!

 

মিমি,

তোমার শরীর ও মন কোনোটা-ই ভাল নেই জেনে আমারও মনটা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেল! অবশ্য কিছু করার নেইসময়টা এমনই চলছে।এক দুঃস্বপ্ন তোমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে---! এমনও আমার জীবনে কখনও হয়েছে। কিন্তু  আজ এই দুর্ঘটনার জন্য  তোমার কথায় বুঝলাম, বিদায়ের অগ্রিম-সঙ্কেত যে তোমার স্বপ্নেই  দৃষ্ট হয়েছিল,তা ঠিক-ই। সৃষ্টিশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেও আমরা আমাদের কতটুকুই বা  জানি!(?) বিশ্বস্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি আমরা যেন এই বেদনাময় মুহূর্তগুলি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে বিশ্ব-বিধাতার অলংঘ্য নিয়মকে মেনে নিতে পারি!...তোমার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারি না। তাই কবিতার আসরে গিয়ে তোমার কবিতা পড়লাম শুধু নয়,সঙ্গে নিয়ে এলাম।আশা করি আমার এই চিঠি পড়ার আগে তোমার কবিতা দেখে চিনতে পেরেছ।আমার মন্তব্য বা আমার লেখা তোমার ভালো লাগে বলে জানিয়েছ। তোমার এই বক্তব্য যদি সত্যি হয়,আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো।তোমার একটু 'ভাল লাগা'-ই আমার 'অনেক পাওয়া'। কি জানো মিমিআমারও বলতে ইচ্ছে হয়--- মিমি-র কবিতা আমার খুব ভালো লাগে!মন্তব্য-প্রসঙ্গ উঠল ব'লে তোমাকেই বলি:-- অধিকাংশ মন্তব্যকারীদের মন্তব্যে,কোন পরিশীলিত বা মার্জিত সাহিত্যধর্মী ব্যাখ্যা থাকেনা।তখন তাঁদের মন্তব্য-আসরে আমার নিজেকে বড় অসহায়, একা  মনে হয়।আমার বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত মন্তব্য অনেকের কাছে হয়তো বাচালতা মনে হতে পারে---এমনও কয়েকবার হয়েছে।সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে, আমি বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে বা বিশেষ কোনো বন্ধুর লেখায় কখনো মন্তব্য করি। কবির কথায় বলি: কবিতা আর দেবতা সুন্দরের প্রকাশ!সুন্দরকে স্বীকার করতে হয়,যা সুন্দর তাই দিয়ে...বলা বাহুল্য,সুন্দরের সাধনা আমার স্বভাবধর্ম।অসুন্দর থেকে আমি অনেক দূরে বলে-ই আমি আজও এক অজানা পথিক। তবে হ্যাঁ,এমন কোনো এক সময় ছিল,যখন তোমার নীরা-র মতো কাব্যময়ী মানস প্রতিমার বর্ণনায় লেখনীতে অবিরাম গতি ছিল।এই সুযোগে আমার লেখা কবিতার কিছু কথা তোমাকে শুনিয়ে দিই:-

আজ আর নেই সেই শুভক্ষণ,ছন্দে কবিতা লেখা

আজ আর ফিরে আসেনা তো সেই গোধুলি বেলায় দেখা!

সাঁঝের আকাশে সেই সাঁঝতারা,সজল নয়নে চায়

তুলসী-তলার সন্ধ্যা-প্রদীপ শুধু মনে পড়ে যায়!

প্রভাতি আলোয় সেই হাসি নেই,যেন নিরাশার ছবি

তবু কেন হায়,কবিতার টানে,মন হতে চায় কবি!!

আবার তোমার কথায় ফিরে আসি। তোমার নীরা যেওনা কবিতা পড়ে তোমাকে আরও একটু বেশি জানার সুযোগ হল।নীরা- স্রষ্টার মহাপ্রয়াণের মাত্র একমাস আগে তোমার এই কবিতা-প্রকাশ কাব্য-জগতে স্মৃতিময় হয়ে থাকুক! সাধারণ পাঠকদের দৃষ্টিতে হয়তো তোমার মনস্তাত্বিক কাব্য-কথার গুরুত্ব থাকবেনা।কিন্তু কালের বিচারে একদিন তা সচেতন পাঠক-সমাজে সমাদৃত হবে।কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবব্যঞ্জনা খুব সহজভাষায় বলেই তা কাব্যিক সৌন্দর্য-সুষমায় সার্থক রূপ পেয়েছে।... তোমার কি মনে পড়ে বালক রবির সেই ঘটনার কথা?রবি-র লেখা গান তাঁর বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকে শুনিয়েছিলেন? নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে রয়েছ নয়নে নয়নে।...গানটি শুনে বাবা মন্তব্য করেছিলেন এই বলে যে দেশের রাজা যদি এ গানের ভাষা বুঝতেন,তবে তিনি রবিকে পুরস্কৃত করতেন। তো সেদিক থেকে যখন সম্ভাবনা নেই,সে কাজ আমাকেই করতে হবে।...এই বলে ৫০০ টাকার একটি চেক রবি-র হাতে তুলে দিলেন।আর এটাই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রথম পুরস্কার।

মিমি,তুমিও আজ যেন তেমনি আমার দৃষ্টিতে। তোমার কবিতা নীরা যেওনাআজ এই শোকাচ্ছন্ন মুহূর্তে এত প্রাসঙ্গিক যে আমার প্রশংসাসূচক মন্তব্যও বোধ হয় তোমার জন্য যথেষ্ট নয়।তাই নীরা-স্রস্টার সৃষ্টি থেকে সংগৃহীত কবিতাঅর্ঘ্য আজ তোমাকেই দিতে চাইযদিও তা যেন গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতো!...ভাল থেকো,আবার লেখো,একটু অবসর পেলে!!!

(সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীরা বিষয়ক কিছু কবিতা)

সত্যবদ্ধ অভিমান
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি
?
শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায়

তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো
যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে
নীরার সুষমা
চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু ?
তখন সে যুবতীকে খুকি বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়--

আমি ডান হাত তুলি, পুরুষ পাঞ্জার দিকে
মনে মনে বলি,
যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো--

ছুঁয়ে দিই নীরার চিবুক
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে আর কোনোদিন
পাপ করতে পারি ?

এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে , ভালোবাসি--

এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায়
?
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে পড়ে ভীষণ জরুরী

কথাটাই বলা হয়নি
লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশী বাতাস
আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে সবগুলো সিঁড়ি
থমকে দাঁড়িয়ে আমি নীরার চোখের দিকে....
ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ
সত্যবদ্ধ অভিমান--চোখ জ্বালা করে ওঠে,
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে

এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি--
এই ওষ্ঠে আর কোন মিথ্যে কি মানায় ?

নীরা তুমি
নীরা, তুমি নিরন্নকে মুষ্টিভিক্ষা দিলে এইমাত্র
আমাকে দেবে না?
শ্মশানে ঘুমিয়ে থাকি, ছাই-ভস্ম খাই, গায়ে মাখি

নদী-সহবাসে কাটে দিন
এই নদী গৌতম বুদ্ধকে দেখেছিল
পরবর্তী বারুদের আস্তরণও গায়ে মেখেছিল
এই নদী তুমি!

বড় দেরি হয়ে গেল, আকাশে পোশাক হতে বেশি বাকি নেই
শতাব্দীর বাঁশবনে সাংঘাতিক ফুটেছে মুকুল
শোনোনি কি ঘোর দ্রিমি দ্রিমি?
জলের ভিতর থেকে সমুত্থিত জল কথা বলে

মরুভূমি মেরুভূমি পরস্পর ইশারায় ডাকে
শোনো, বুকের অলিন্দে গিয়ে শোনো
হে নিবিড় মায়াবিনী, ঝলমলে আঙুল তুলে দাও
কাব্যে নয়, নদীর শরীরে নয়, নীরা
চশমা-খোলা মুখখানি বৃষ্টিজলে ধুয়ে
কাছাকাছি আনো
নীরা, তুমি নীরা হয়ে এসো!

নীরা ও জীরো আওয়ার
এখন অসুখ নেই, এখন অসুখ থেকে সেরে উঠে
পরবর্তী অসুখের জন্য বসে থাকাএখন মাথার কাছে
জানলা নেই, বুক ভরা দুই জানলা, শুধু শুকনো চোখ
দেয়ালে বিশ্রাম করে, কপালে জলপট্টির মতো
ঠাণ্ডা হাত দূরে সরে গেছে, আজ এই বিষম সকালবেলা
আমার উত্থান নেই, আমি শুয়ে থাকি, সাড়ে দশটা বেজে যায়

প্রবন্ধ ও রম্যরচনা, অনুবাদ, পাঁচ বছর আগের
শুরু করা উপন্যাস, সংবাদপত্রের জন্য জল-মেশানো
গদ্য থেকে আজ এই সাড়ে দশটায় আমি সব ভেঙেচুরে
উঠে দাঁড়াতে চাইঅন্ধ চোখ, ছোট চুলইস্ত্রিকরা পোশাক ও
হাতের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলে আমি এখন তোমার
বাড়ির সামনে, নীরা থুক্‌ করে মাটিতে থুতু ছিটিয়ে‌
বলি : এই প্রাসাদ একদিন আমি ভেঙে ফেলবো! এই প্রাসাদে
এক ভারতবর্ষব্যাপী অন্যায়এখান থেকে পুনরায় রাজতন্ত্রের
আমি
ব্রীজের নিচে বসে গম্ভীর আওয়াজ শুনেছি, একদিন
আমূলভাবে উপড়ে নিতে হবে অপবিত্র সফলতা

কবিতায় ছোট দুঃখ, ফিরে গিয়ে দেখেছি বহুবার
আমার নতুন কবিতা এই রকম ভাবে শুরু হয় :
নীরা, তোমায় একটি রঙিন
সাবান উপহার
দিয়েছি শেষবার;
আমার সাবান ঘুরবে তোমার সারা দেশে

বুক পেরিয়ে নাভির কাছে মায়া স্নেহে
আদর করবে, রহস্যময় হাসির শব্দে
ক্ষয়ে যাবে, বলবে তোমার শরীর যেন
অমর না হয়

অসহ্য! কলম ছুঁড়ে বেরিয়ে আমি বহুদূর সমুদ্রে

চলে যাই, অন্ধকারে স্নান করি হাঙর-শিশুদের সঙ্গে
ফিরে এসে ঘুম চোখ, টেবিলের ওপাশে দুই বালিকার
মতো নারী, আমি নীল-লোভী তাতার বা কালো ঈশ্বর-খোঁজা
নিগ্রোদের মতো অভিমান করি, অভিমানের স্পষ্ট
শব্দ, আমার চা-মেশানো ভদ্রতা হলুদ হয়!

এখন, আমি বন্ধুর সঙ্গে সাহাবাবুদের দোকানে, এখন
বন্ধুর শরীরে ইঞ্জেকশন ফুঁড়লে আমার কষ্ট, এখন
আমি প্রবীণ কবির সুন্দর মুখ থেকে লোমশ ভ্রুকুটি
জানু পেতে ভিক্ষা করি, আমার ক্রোধ ও হাহাকার ঘরের
সিলিং ছুঁয়ে আবার মাটিতে ফিরে আসে, এখন সাহেব বাড়ীর
পার্টিতে আমি ফরিদপুরের ছেলে, ভালো পোষাক পরার লোভ
সমেত কাদা মাখা পায়ে কুসিত শ্বেতাঙ্গিনীকে দুপাটি
দাঁত খুলে আমার আলজিভ দেখাই, এখানে কেউ আমার
নিম্নশরীরের যন্ত্রনার কথা জানে নাডিনারের আগে
১৪ মিনিটের ছবিতে হোয়াইট ও ম্যাকডেভিড মহাশূন্যে
উড়ে যায়, উন্মাদ! উন্মাদ! এক স্লাইস পৃথিবী দূরে,
সোনার রজ্জুতে

বাঁধা একজন ত্রিশঙ্কুকিন্তু আমি প্রধান কবিতা
পেয়ে গেছি প্রথমেই, , , , , থেকে ক্রমশ শূন্যে
এসে স্তব্ধ অসময়, উলটোদিকে ফিরে গিয়ে এই সেই মহাশূন্য,
সহস্র সূর্যের বিস্ফোরণের সামনে দাঁড়িয়ে ওপেনহাইমার

প্রথম এই বিপরীত অঙ্ক গুনেছিল ভগব গীতা আউড়িয়ে?
কেউ শূন্যে ওঠে কেউ শূন্যে নামে, এই প্রথম আমার মৃত্যু

ও অমরত্বের ভয় কেটে যায়, আমি হেসে বন্দনা করি :
ওঁ শান্তি! হে বিপরীত সাম্প্রতিক গণিতের বীজ
তুমি ধন্য, তুমি ইয়ার্কি, অজ্ঞান হবার আগে তুমি সশব্দ
অভ্যুত্থান, তুমি নেশা, তুমি নীরা, তুমিই আমার ব্যক্তিগত
পাপমুক্তিআমি আজ পৃথিবীর উদ্ধারের যোগ্য

নীরা তোমার কাছে
সিঁড়ির মুখে কারা অমন শান্তভাবে কথা বললো?
বেরিয়ে গেল দরজা ভেজিয়ে, তবু তুমি দাঁড়িয়ে রইলে সিঁড়িতে

রেলিং-এ দুই হাত ও থুত্‌নি, তোমায় দেখে বলবে না কেউ থির বিজুরি
তোমার রঙ একটু ময়লা, পদ্মপাতার থেকে যেন একটু চুরি,
দাঁড়িয়ে রইলে

নীরা, তোমায় দেখে হঠা নীরার কথা মনে পড়লো

নীরা, তোমায় দেখি আমি সারা বছর মাত্র দুদিন
দোল ও সরস্বতী পূজোয়দুটোই খুব রঙের মধ্যে
রঙের মধ্যে ফুলের মধ্যে সারা বছর মাত্র দুদিন
ও দুটো দিন তুমি আলাদা, ও দুটো দিন তুমি যেন অন্য নীরা

বাকি তিনশো তেষট্টি বার তোমায় ঘিরে থাকে অন্য প্রহরীরা
তুমি আমার মুখ দেখোনি একলা ঘরে, আমি আমার দস্যুতা
তোমার কাছে লুকিয়ে আছি, আমরা কেউ বুকের কাছে কখনো
কথা বলিনি পরস্পর, চোখের গন্ধে করিনি চোখ প্রদক্ষিণ
আমি আমার দস্যুতা

তোমার কাছে লুকিয়ে আছি, নীরা তোমায় দেখা আমার মাত্র দুদিন

নীরা, তোমায় দেখে হঠা নীরার কথা মনে পড়লো
আমি তোমায় লোভ করিনি, আমি তোমায় টান মারিনি সুতোয়
আমি তোমার মন্দিরের মতো শরীরে ঢুকিনি ছল ছুতোয়
রক্তমাখা হাতে তোমায় অবলীলায় নাশ করিনি;
দোল ও সরস্বতী পূজোয় তোমার সঙ্গে দেখা আমারসিঁড়ির কাছে

আজকে এমন দাঁড়িয়ে রইলে
নীরা, তোমার কাছে আমি নীরার জন্য রয়ে গেলাম চিরঋণী

নীরা তুমি কালের মন্দিরে
চাঁদের নীলাভ রং, ওইখানে লেগে আছে নীরার বিষাদ
ও এমন কিছু নয়, ফুঁ দিলেই চাঁদ উড়ে যাবে
যে রকম সমুদ্রের মৌসুমিতা, যে রকম
প্রবাসের চিঠি
অরণ্যের এক প্রান্তে হাত রেখে নীরা কাকে বিদায় জানালো
আঁচলে বৃষ্টির শব্দ, ভুরুর বিভঙ্গে লতা পাতা
ও যে বহুদূর,
পীত অন্ধকারে ডোবে হরি প্রান্তর

ওখানে কী করে যাবো, কী করে নীরাকে
খুঁজে পাবো?

অক্ষরবৃত্তের মধ্যে তুমি থাকো, তোমাকে মানায়

মন্দাক্রান্তা, মুক্ত ছন্দ, এমনকি চাও শ্বাসাঘাত
দিতে পারি, অনেক সহজ
কলমের যে-টুকু পরিধি তুমি তাও তুচ্ছ করে
যদি যাও, নীরা, তুমি কালের মন্দিরে
ঘন্টধ্বনি হয়ে খেলা করো, তুমি সহাস্য নদীর
জলের সবুজে মিশে থাকো, সে যে দূরত্বের চেয়ে বহুদূর
তোমার নাভির কাছে জাদুদণ্ড, এ কেমন খেলা
জাদুকরী, জাদুকরী, এখন আমাকে নিয়ে কোন রঙ্গ
নিয়ে এলি চোখ-বাঁধা গোলকের ধাঁধায়!

নীরার জন্য কবিতার ভুমিকা
এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা
এ কবিতার মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে

ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের
থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে এক মুহুর্ত ভাববে
কে তোমায় মনে করছে এত রাত্রে তখন আমার
এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কমা ড্যাশ রেফ
ও রয়ের ফুটকি সমেত ছুটে যাচ্ছে তোমার দিকে, তোমার
আধো ঘুমন্ত নরম মুখের চারপাশে এলোমেলো চুলে ও
বিছানায় আমার নিঃশ্বাসের মতো নিঃশব্দ এই শব্দগুলো
এই কবিতার প্রত্যেকটি অক্ষর গুণিনের বাণের মতো শুধু
তোমার জন্য, এরা শুধু তোমাকে বিদ্ধ করতে জানে

তুমি ভয় পেয়ো না, তুমি ঘুমোও, আমি বহু দূরে আছি
আমার ভযংকর হাত তোমাকে ছোঁবে না, এই মধ্যরাত্রে
আমার অসম্ভব জেগে ওঠা, উষ্ণতা, তীব্র আকাঙ্খা ও
চাপা আর্তরব তোমাকে ভয় দেখাবে না আমার সম্পূর্ণ আবেগ
শুধু মোমবাতির আলোর মতো ভদ্র হিম,
.
শব্দ ও অক্ষরের কবিতায়

তোমার শিয়রের কাছে যাবে এরা তোমাকে চুম্বন করলে
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারা রাত শুয়ে থাকবে
এক বিছানায় তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা তোমার পায়ের
কাছে মরা প্রজাপতির মতো লুটোবে | এদের আত্মা মিশে
থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো

বহুদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্নার জলের মতো
হেসে উঠবে, কিছুই না জেনে | নীরা, আমি তোমার অমন
সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো | আমি অন্য কথা
বালার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর করবো মনে-মনে
ঘর ভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
.
নিজস্ব চোখে তাকাবো |
তুমি জানতে পারবে না তোমার সম্পূর্ণ শরীরে মিশে আছে
|
আমার একটি অতি ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি শব্দের আত্মা
|

নীরার দুঃখকে ছোঁয়া

কতটুকু দূরত্ব? সহস্র আলোকবর্ষ চকিতে পার হয়ে
আমি তোমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসি
তোমার নগ্ন কোমরের কাছে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলার আগে
অলঙ্কৃত পাড় দিতে ঢাকা অদৃশ্য পায়ের পাতা দুটি
বুকের কাছে এনে
চুম্বন ও অশ্রুজলে ভেজাতে চাই
আমার সাঁইত্রিশ বছরের বুক কাঁপে
আমার সাঁইত্রিশ বছরের বাইরের জীবন মিথ্যে হয়ে যায়
বহুকাল পর অশ্রু বিস্মৃত শব্দটি
অসম্ভব মায়াময় মনে হয়
ইচ্ছে করে তোমার দুঃখের সঙ্গে
আমার দুঃখ মিশিয়ে আদর করি
সামাজিক কাঁথা সেলাই করা ব্যবহার তছনছ করে
স্ফুরিত হয় একটি মুহূর্ত
আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে তোমার পায়ের কাছে

বাইরে বড় চ্যাঁচামেচি, আবহাওয়া যখন তখন নিম্নচাপ

ধ্বংস ও সৃষ্টির বীজ ও ফসলে ধারাবাহিক কৌতুক
অজস্র মানুষের মাথা নিজস্ব নিয়মে ঘামে
সেই তো শ্রেষ্ঠ সময় যখন এ-সবকিছুই তুচ্ছ
যখন মানুষ ফিরে আসে তার ব্যক্তিগত স্বর্গের
অতৃপ্ত সিঁড়িতে
যখন শরীরের মধ্যে বন্দী ভ্রমরের মনে পড়ে যায়
এলাচ গন্ধের মতো বাল্যস্মৃতি
তোমার অলোকসামান্য মুখের দিকে আমার স্থির দৃষ্টি
তোমার রেজী অভিমানের কাছে প্রতিহত হয়
দ্যুলোক-সীমানা
প্রতীক্ষা করি ত্রিকাল দুলিয়ে দেওয়া গ্রীবাভঙ্গির
আমার বুক কাঁপে,
কথা বলি না

বুকে বুক রেখে যদি স্পর্শ করা যায় ব্যথাসরিসাগর
আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে আসি অসম্ভব দূরত্ব পেরিয়ে
চোখ শুকনো, তবু পদচুম্বনের আগে
অশ্রুপাতের জন্য মন কেমন করে!

নীরার হাসি ও অশ্রু
নীরার চোখের জল অনেক চোখের অনেক
নীচে
টল্‌মল্‌
নীরার মুখের হাসি মুখের আড়াল থেকে
বুক, বাহু, আঙুলে
ছড়ায়
শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরা
আমাকে বাড়িয়ে দেয়, হাস্যময় হাত
আমার হাতের মধ্যে চৌরাস্তায় খেলা করে নীরার কৌতুক
তার ছদ্মবেশ থেকে ভেসে আসে সামুদ্রিক ঘ্রাণ
সে আমার দিকে চায়, নীরার গোধূলি মাখা ঠোঁট থেকে
ঝরে পড়ে লীলা লোধ্র
আমি তাকে প্রচ্ছন্ন আদর করি, গুপ্ত চোখে বলি :
নীরা, তুমি শান্ত হও
অমন মোহিনী হাস্যে আমার বিভ্রম হয় না, আমি সব জানি
পৃথিবী তোলপাড় করা প্লাবনের শব্দ শুনে টের পাই
তোমার মুখের পাশে উষ্ণ হাওয়া
নীরা, তুমি শান্ত হও!

নীরার সহাস্য বুকে আঁচলের পাখিগুলি
খেলা করে
কোমর ও শ্রোণী থেকে স্রোত উঠে ঘুরে যায় এক পলক
সংসারের সারাসার ঝলমলিয়ে সে তার দাঁতের আলো
সায়াহ্নের দিকে তুলে ধরে
নাগকেশরের মতো ওষ্ঠাধরে আঙুল ঠেকিয়ে বলে,
চুপ!

আমি জানি
নীরার চোখের জল চোখের অনেক নিচে টল্‌মল্‌।।

নীরার অসুখ

নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকে

সূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নের বাতিগুলি হঠা জ্বলার আগে জেনে নেয়
নীরা আজ ভালো আছে?
গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্যওরা জানে

নীরা আজ ভালো আছে!
অফিস সিনেমা পার্কে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে মুখে রটে যায়
নীরার খবর
বকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে দেয়, নীরা আজ খুশি
হঠা উদাস হাওয়া এলোমেলো পাগ্‌লা ঘন্টি বাজিয়ে আকাশ জুড়ে
খেলা শুরু করলে
কলকাতার সব লোক মৃদু হাস্যে জেনে নেয়, নীরা আজ বেড়াতে গিয়েছে

আকাশে যখন মেঘ, ছায়াচ্ছন্ন গুমোট নগরে খুব দুঃখ বোধ
হঠা ট্রামের পেটে ট্যাক্সি ঢুকে নিরানন্দ জ্যাম চৌরাস্তায়
রেস্তোরাঁয় পথে পথে মানুষের মুখ কালো, বিরক্ত মুখোস
সমস্ত কলকাতা জুড়ে ক্রোধ আর ধর্মঘট, শুরু হবে লণ্ডভণ্ড
টেলিফোন পোস্টাফিসে আগুন জ্বালিয়ে
যে-যার নিজস্ব হৃস্পন্দনেও হরতাল জানাবে
আমি ভয়ে কেঁপে উঠি, আমি জানি, আমি তক্ষণা ছুটে যাই, গিয়ে বলি
,
নীরা, তুমি মন খারাপ করে আছো
?
লক্ষ্মী মেয়ে, একবার চোখে দাও, আয়না দেখার মতো দেখাও ও-মুখের মঞ্জরী

নবীন জনের মতো কলহাস্যে একবার বলো দেখি ধাঁধার উত্তর!
অমনি আড়াল সরে, বৃষ্টি নামে, মানুষেরা সিনেমা ও খেলা দেখতে
চলে যায় স্বস্তিময় মুখে
ট্রাফিকের গিঁট খোলে, সাইকেলের সঙ্গে টেম্পো, মোটরের সঙ্গে রিক্সা
মিলেমিশে বাড়ি ফেরে যা-যার রাস্তায়
সিগারেট ঠোঁটে চেপে কেউ কেউ বলে ওঠে, বেঁচে থাকা নেহা মন্দ না!



নীরার পাশে তিনটি ছায়া

নীরা এবং নীরার পাশে তিনটি ছায়া
আমি ধনুকে তীর জুড়েছি, ছায়া তবুও এত বেহায়া
পাশ ছাড়ে না
এবার ছিলা সমুদ্যত, হানবো তীর ঝড়ের মতো
নীরা দুহাত তুলে বললো, ‘মা নিষাদ!

ওরা আমার বিষম চেনা!
ঘূর্ণি ধুলোর সঙ্গে ওড়ে আমার বুক চাপা বিষাদ

লঘু প্রকোপে হাসলো নীরা, সঙ্গে ছায়া-অভিমানীরা

ফেরানো তীর দৃষ্টি ছুঁয়ে মিলিয়ে গেল
নীরা জানে না!


হঠা নীরার জন্য

বাস স্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল
স্বপ্নে বহুক্ষণ
দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারেদিকচিহ্নহীন
বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর, হাওয়ার ভিতরে

তোমাকে দেখছি কাল স্বপ্নে, নীরা, ওষধি স্বপ্নের
নীল দুঃসময়ে

দক্ষিণ সমুদ্রদ্বারে গিয়েছিলে কবে, কার সঙ্গে? তুমি
আজই কি ফিরেছো?
স্বপ্নের সমুদ্র সে কী ভয়ংকর, ঢেউহীন, শব্দহীন, যেন

তিনদিন পরেই আত্মঘাতী হবে, হারানো আঙটির মতো দূরে
তোমার দিগন্ত, দুই উরু ডুবে কোনো জুয়াড়ির সঙ্গিনীর মতো,
অথচ একলা ছিলে, ঘোরতর স্বপ্নের ভিতরে তুমি একা


এক বছর ঘুমোবো না, স্বপ্নে দেখে কপালের ঘাম
ভোরে মুছে নিতে বড় মূর্খের মতন মনে হয়
বরং বিস্মৃতি ভালো, পোশাকের মধ্যে ঢেকে রাখা
নগ্ন শরীরের মতো লজ্জাহীন, আমি
এক বছর ঘুমোবো না, এক বছর স্বপ্নহীন জেগে
বাহান্ন তীর্থের মতো তোমার ও-শরীর ভ্রমণে
পুণ্যবান হবো

বাসের জানালার পাশে তোমার সহাস্য মুখ, ‘আজ যাই,
বাড়িতে আসবেন!


রৌদ্রের চিকারে সব শব্দ ডুবে গেল

একটু দাঁড়াও’, কিংবা চলো লাইব্রেরির মাঠে’, বুকের ভিতরে
কেউ এই কথা বলেছিল, আমি মনে পড়া চোখে
সহসা হাতঘড়ি দেখে লাফিয়ে উঠেছি, রাস্তা, বাস, ট্রাম, রিকশা, লোকজন
ডিগবাজির মতো পার হয়ে, যেন ওরাং উটাং, চার হাত-পায়ে ছুটে
পৌঁছে গেছি আফিসের লিফ্‌টের দরজায়

বাস স্টপে তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ।।