এসেই যখন পড়েছ

এসেই যখন পড়েছ, বসো।
লাঞ্চআওয়ার ভেবে তড়িঘড়ি করোনা
ঢের সময় আছে আমার হাতে, যদিও
আমি কখনও ঘড়ি পরিনা, ঠিক কতোটা
সময় আমি তোমাকে দিতে পারবো জানিনা
তবে মন বলছে ঢের সময় আছে আমার
তোমার জন্য রাখা।
তাড়াহুড়োর কিছু নেই তোমার কথাগুলো
বলতে পারো বানান করে।
আমার খাবার সময় নিয়ে ভেবোনা,
কবিদের খাবার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই
কবিরা কখন খায় কখন ঘুমায় কবি তা জানেনা।

এতো ব্যস্ত হচ্ছো কেন? আর কী কোনো কথা নেই!
নির্দিধায় বলতে পারো যত সময় লাগুক না কেন,
আমার তো মনে হয় তোমার আরো কিছু বলার ছিল
ভেবে ভেবে আরো বেশি সময় নিয়ে বলো
যা কিছু বলার তোমার। আমার কোনো ব্যস্ততা নেই,
কবিরা কখনও ব্যস্ত থাকেনা। কবিদের কোনো ব্যস্ততা নেই।

যদি অনর্থক মনে হয় তাও বলো, আমার মনে হচ্ছে
কোনো অর্থবহ কথাই বুঝি তোমার হয়নি বলা;
আমার বিরক্ত হওয়া নিয়ে ভাবছো! কী অদ্ভুত!
আমার কোনো বিরক্তিবোধ নেই, কবিরা কখনও বিরক্ত হয়না।
বিরক্তিবোধ কবিদের থাকেনা। এটা জেনে রাখো
কবিরা কখনও বিরক্ত হয়না।

মোহাম্মদপুর, ঢাকা
০৪.০১.২০১৩

নারী

যদি জানতে চাও...
নারীর কোন অঙ্গ করে ভঙ্গ স্বাভাবিক চলাচল
কোনটি বড় বেশি টানে, হও বিহবল?
এককথায় বলি বক্ষ জুড়েই তার তৃষ্ণা নিরন্তর।
স্পষ্ট করেই বলি ‌'স্তন' তার মুগ্ধ-মনোহর।
এটা আমার সাহস অথবা সত‌্যিকারের আমি।
যদি বলো অসভ্য-বেহায়া, তবে বলবো-
নারীর চোখ, ঠোঁট কিংবা ভিন্ন নারীর ভিন্ন কিছু
আর এটা আমার মুখোশ,
সব মানুষই যার আড়ালে
নিজেকে সুসভ্য ফুটিয়ে তোলে।

একটা নারী একটি নদী।
কখনোবা তাঁকে মনে হয়
মাথার উপর বিশাল আকাশ
কখনোবা বিশাল জলরাশি
মরুভূমির ধূ-ধূ মরীচিকাও মনে হয়
কখনো মনে হয় একটা নারী একটা পৃথিবী।

নারী ভাসায়, নারী ডুবায়
নারী গড়ে তোলে তাজমহল;
আবার নারীতেই ধ্বংস ট্রয়নগরী।
নারী মমতাময়ী, নারী ছলনাময়ী
নারী সুহাসিনী, নারী ভয়ংকরি।

নারীকে ভালোবাসি, নারীকে ঘৃণা করি
নারীকে শ্রদ্ধা করি, নারীকে ভৎসনা করি।
নারীর জন্য ভালোবাসা-ঘৃণা পাশাপাশি রাখি।
তাঁর জন্য শ্রদ্ধা-ভৎসনা দুটোই পুষি।
তাঁর অঙ্গকে ভালোবাসি, অন্তরে লুকিয়ে থাকি।
তাঁর অঙ্গ ছুঁয়ে পুলকিত হই, মন ছুঁয়ে বাঁচি।

যদি বলো অঙ্গ নাহি মনটাকেই ভালোবাসি
নির্দ্বিধায় বলি তুমি মিথ্যার পুজারী।
সত্য বলি, নারীর স্তনে আকর্ষিত হই
মনকে ছুঁয়ে বাঁচি।
যদিও বলো অসভ্য-বেহায়া অতি।

মোহাম্মদপুর, ঢাকা
২৩.০৬.২০১১

 

মন বলে

মন বলে ভালোবাসি, আরো ভালো
অনেক ভালো, বেশি ভালো, ভালোর ভালো
নির্মল ভালো, নিরঙ্কুশ ভালো, নির্ভেজাল ভালো
পরিপূর্ণ ভালো, পৃথিবীর সব ভালো।

মন বলে পাশে থাকি, আরো পাশে
খুব পাশে, বেশি পাশে, হাতের পাশে
বুকের পাশে, চোখের পাশে, ঠোঁটের পাশে
নিঃশ্বাসের পাশে, পুরো অস্তিত্বের পাশে।

মন বলে কথা বলি, অনেক কথা
বেশি কথা, গোপন কথা, মিষ্টি কথা
দুষ্টু কথা, নষ্ট কথা, কষ্ট কথা, বাসি কথা
নতুন কথা, পুরনো কথা, কথার কথা।

মন বলে ছুঁয়ে থাকি, অনেক ছুঁয়ে, বেশি ছুঁয়ে
হাত ছুঁয়ে, দাঁত ছুঁয়ে, চোখ ছুঁয়ে, মুখ ছুঁয়ে
ঠোঁট ছুঁয়ে, অধর ছুঁয়ে, বক্ষ ছুঁয়ে, নাভি ছুঁয়ে
দৃষ্টি ছুঁয়ে, ভাবনা ছুঁয়ে, ছোঁবার মতো সব ছুঁয়ে।

মন বলে স্বপ্ন দেখি, অনেক স্বপ্ন, বেশি স্বপ্ন
হাজার স্বপ্ন, লাখো স্বপ্ন, কাঁচা স্বপ্ন, পাকা স্বপ্ন
সত্য স্বপ্ন, মিথ্যা স্বপ্ন, দুষ্টু স্বপ্ন, মিষ্টি স্বপ্ন
রাতের স্বপ্ন, দিনের স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো একটি স্বপ্ন।

মোহাম্মদপুর, ঢাকা
১৬.০১.২০১৩

 

সুন্দরের অপেক্ষায় থাকি

একটি সুন্দর সকালের জন্যই হয়তোবা
প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে উঠি, না হলে
ঘুমের মধ্যেইতো বেশ থাকি, অনেক বেশি নিশ্চিন্ত,
চোখের পাতার মিলনে মধুময় স্বপ্নে থাকি বিভোর।

সুন্দর শব্দ, সুন্দর বাক্য, সুন্দর কথামালা
সুন্দর আলাপন, সুন্দর সম্বোধন, সুন্দর কুশল বিনিময়।
কথপোকথন যত সম্ভাষণ, শ্লোগান-পোস্টার-ব্যানার
মঞ্চে মঞ্চে যত ভাষণ, সুন্দরেই যদি হতো সকল সমর্পণ!

সুন্দর পথ, সুন্দর চলা, সুন্দর ফুটপাত
সুন্দর পথিক, সুন্দর পাথেয়, সুন্দর ছন্দ চলার
এই সিগন্যাল বাতি লাল-সবুজ-হলুদ
যত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী, যত পথচারী
সুন্দরেই যদি হতো সব মগ্ন পুঁজারী।

সুন্দর খবর, সুন্দর বার্তা, সুন্দর নিমন্ত্রণ
সুন্দর হেড লাইন, সুন্দর লাইভ আয়োজন
যত সংবাদকর্মী, যত নিউজ উপস্থাপক
যত ডিরেক্টর সেক্টরে সেক্টর, যত নাটক-নাট্যকার
সব অভিনেতাকূল সুন্দরেই যদি হতো সবার বসবাস!

সুন্দর নীতি, সুন্দর গীতি, সুন্দর সংগীত
সুন্দর শিল্প, সুন্দর শিল্পী, সুন্দর শিল্পালয়
যত গান কথাকার, যত সুরকার, সংগীত আয়োজন
আছে যত, সুন্দর যদি হতো ধ্যান-জ্ঞান!

চারিদিকে এতসব অসুন্দরের দাবানল
শুকিয়ে আসে বুকের জল, কখনও কখনও নিথর চলাচল
আক্ষেপ নিয়ে বাঁচি, যেখানে সুন্দরের সূত্রপাত্র সেখানেই কারসাজি।
কবি তাই কবিতায় শেষ আশ্রয়, চরণে চরণে সুন্দরের ছবি আঁকি
যা কিছু সুন্দর অন্তর মেলে তার অপেক্ষায় থাকি।

মোহাম্মদপুর, ঢাকা
১৯.০১.২০১৩