আমি জামায়াত-বিরোধী ছাগু বলছি। কিভাবে করে জামায়াতের বিরোধিতা করেও ছাগু হলাম? সেই গল্প অনেক লম্বা। তবে বলতে পারি আপনার মাথার ভিতরে হলুদ পদার্থ যদি কাজ করে, চোখ থাকতেও যদি অন্ধ না হন, তবে আমার গল্পটা মন দিয়ে পড়লে আপনিও ছাগু হয়ে যাবেন। সেটাও কিভাবে? পরে বলছি।
আগের গল্প সবাই জানে, আমার গল্পটা শুরু হয় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে। আজব আজব ঘটনা ঘটে যেতে থাকে একের পর। একটার চেয়ে একটা বড়। ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্রম-বিকাশমান ইন্টারনেটের কবলে পরে দেশের সবাই মত প্রকাশের সুযোগ পায়। কেউ সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেকে প্রমোট করে, কেউ করে রাজনৈতিক আদর্শ(!)। দেশে অনেক আগেই শুরু হয়ে ছিল, কিন্তু এই সরকার আসার পর ব্লগারদের সংখ্যাও বেড়ে গেলো। বাংলাদেশে সব কিছু দুইদল। তেমনি সামান্য অংশ বাদে ব্লগাররা হয়ে গেল দুই দল। কেউ কোনও বিবেচনা ছাড়াই রেখা টেনে দুইটা ভাগ করে দিলো, এই পক্ষের কিছু না মানলেই আপনি প্রতিপক্ষ। হয়ে গেলো একদল, যারা – আস্তিক, জামাতি, বি এন পি, পাকিস্তানের দালাল, রাজাকার, ছাগু। আরেকদল হয়ে গেলো – নাস্তিক, আওয়ামীলীগ, ভারতের দালাল। আস্তিক হবার কারণে একটা মানুষকে ছাগু দলে ফেলে দেয়া কিংবা নাস্তিকতার সাথে আওয়ামীলীগ বলে দেয়া খুব ডালভাত। কোনও নাস্তিকের সমালোচনা করলে রাজাকার হয়ে যায়, যদিও নাস্তিকতার সাথে মুক্তিযুদ্ধের কি সম্পর্ক সেটা কেউ বলতে পারেনা। আবার ধর্মের কথা বললেই জামাতি হয়ে যায়। বিষয়টা শুরু করে বর্তমানের সেলেব্রিটি ব্লগাররা, পরে এই ধরনের গালাগালি করাটাই ব্লগিং’র মজার একটা অংশে পরিণত হয়। একদল ছাগু ছাগু করে বেড়ায়, একদল ভাদা ভাদা করে বেড়ায়। এর বাইরে কেউ থাকতেই পারে না। সুকৌশলে খুব ছোট একটা দল এই কালচারটা প্ল্যান্ট করে দিলো সাধারণ ব্লগারদের মধ্যে। কমে গেলো সহনশীলতা, ব্লগারদের ভাষাও লাগাম ছাড়া, ব্লগে মানুষের কমেন্টের ভাষাও লাগামছাড়া। যেহেতু ব্লগিং হয় ভার্চুয়াল জগতে, গায়ে শক্তি না থাকলেও প্রায় সবাই বাঘের গর্জন দিতে পারে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যম ইন্টারনেট, পরিমলের মত কেসে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে এক হাত দেখিয়ে দিয়েছে। এরকম হাজারটা ভালো কাজের উদাহরণ দেয়া যাবে। একই সাথে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে নাস্তিকতার দোহাই দিয়ে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কালচারও সৃষ্টি করেছে। অনেক নাস্তিক যুক্তি আর রেফারেন্স দিয়ে কথা বলে থাকেন, যেটা মত প্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত। আবার অনেকেই ভয়াবহ রকমের ব্লগ লিখে নিজেকে “মুক্তমনা” প্রমাণের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তসলিমা নাসরিন স্ট্র্যাটেজি, তা শুধু মাত্র আলোচিত হওয়ার জন্য। আগেই বললাম সবাই দুই ভাগ, তাই এদের ব্লগে কেউ প্রতিক্রিয়া জানালে সে হয়ে যায় ছাগু/রাজাকার। যদিও নাস্তিকের সাথে রাজাকার/মুক্তিযোদ্ধা এসবের সম্পর্ক কোথায় জিজ্ঞেস করলে কেউ ঠিক জবাব দিতে পারেনা। অতঃপর সেই ব্লগ পরে সাধারণ একজন মানুষ হয় সেদিন একমত হয়ে নিজে নাস্তিক-বাম-লীগ-ভাদা দলে প্রবেশ করবে, অথবা দ্বিমত হয়ে ছাগু-জামাত-রাজাকার-মৌলবাদ দলে প্রবেশ করবে। পরদিন থেকে সেও খিস্তি খেউর করে উগ্র ধর্মীয় একটা ব্লগ লিখবে, পালটা জবাব দেবার জন্য। কেউ দাবি করতে পারেন উগ্র মৌল ব্লগ লেখার পর নাস্তিক ব্লগ লেখা শুরু হয়েছে, হতেই পারে। কে আগে করলো এটা বিষয় না, আসল কথা হল – “অনলাইন হেট কালচার” এর সূত্রপাত সেখান থেকেই।
আগেই বলেছি আমি জামায়াত বিরোধী ছাগু। কিভাবে? কারণ আদর্শগত গলদের কারণে জামায়াতের বিরোধিতা করেও আমি স্বাধীনতার একমাত্র কাণ্ডারি আওয়ামীলীগ বিষয়ে কিছু কথা বলবো। এবারের টার্মে আওয়ামীলীগ যাত্রা শুরু করে বিডিআর বিদ্রোহ দিয়ে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য সবচেয়ে রিস্কি লোকগুলো এক কোপে বিনাশ করে দিয়ে। বছরের পর বছর ট্রেইন করা দেশের সামরিক মাথাগুলো এক কোপে নেই করে দিয়ে, পঙ্গু করে দিয়ে। আওয়ামী ফ্যাশন অনুযায়ী প্রমাণ দূরে থাক বিচার শুরু হবার আগেই বিএনপি-জামাতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়া হল। বিডিআর বিদ্রোহে সবচেয়ে লাভবান হল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।
তারপর এই ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটা ঘটনা। একটা ঘটনা লুকাতে এর চেয়ে বড় ঘটনা। ইলিয়াস আলি গুম, শেয়ার বাজারে লেগে থাকা ধ্বস, পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি, ডেস্টিনি, হলমার্ক, সুরঞ্জিত সেন, একের পর এক ঘটনা। একটা দিয়ে একটা বন্ধ করে দেয়া হল। রামুর ঘটনাও তদন্তের আগেই আমাদের সকল ডিবি/এনএসআই এর আগে কিভাবে জানি প্রধানমন্ত্রী জেনে ফেললেন এটা জামায়াতের কাজ। কাকতালীয় ভাবে ঘটনার আগের দিন জাতিসংঘের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন বাংলাদেশে অনেক বৈষম্য, অনেক রেসিজম, শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তার পরদিনই আওয়ামীলীগের শুরু করা একটা মিছিল দিয়ে ঘটনা শুরু হয়। বাকিটা আমরা সবাই জানি। আজ পর্যন্ত সেই একই গ্রামে বসবাস করা কেউ ধরা পড়েনি, আমরা ভুলে গেলাম। আমরা বিশ্বজিতের খুন দেখলাম মাল্টি-ক্যামেরায় ছাত্রলিগের হিরোইন এ্যাকশনের মাধ্যমে। কেউ কিছু করতে পারলো না। একবার ভেবে দেখুন, বিশ্বজিত বা কোনও অন্য ধর্মাবলম্বী কেউ শিবিরের হাতে খুন হলে বিষয়টা কি ধর্মযুদ্ধ হয়ে যেতো না? ওহ আচ্ছা মনে পরেছে, আওয়ামীলীগের অধিকার আছে হিন্দু খুন করার। পেপারে ছবি চলে আসার পরও কিছু হলোনা। তাই তখন কেউ বেশি লাফঝাঁপ করলো না।
এতদিন কিছু মানুষ অবাক হয়ে ভাবতো, আওয়ামীলীগ একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে, তারা কি জানেনা আগামী বার ভোটে হেরে তাদের বিচারে দাড়া হতে হবে? জবাবটা আমি দিচ্ছি। আওয়ামীলীগ আগেই ৪ বছরের মাথায় তাদের ইমেজ পরিষ্কার করার জন্য শাহবাগ নামের ডিটারজেন্টের প্ল্যান করে রেখেছে। তাই তারা এতদিন বেপরোয়া ছিল। এতদিন ট্রাইব্যুনালে ফালতু সময় নষ্ট করে শেষের এক বছরে এসে এই চালটা কেমন ছিল জানেন? এখনও যদি কোনও বলদ বিশ্বাস করেন ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ছিল, তাইলে আমার আর কিছু বলার নাই। কনভিক্টেড রাজাকারদের মধ্যে যে জামাতিদের সাথে কম জড়িও এবং ইতিমধ্যে পলাতক, তাকে ফাঁসির রায় দিয়ে একটা আইওয়াশ ছিল। দ্বিতীয় জনকে যাবজ্জীবন কেন? এক ডিল এ হাজার পাখি মারতে। শাহবাগ আন্দোলন শুরু হয় ফাঁসি’র দাবিতে, অতঃপর পাখি মারা শুরু হয়। পাখিগুলা কি কি -
রাষ্ট্র-পক্ষের আপিল করার ক্ষমতা অর্জন: আমরা সবাই’ই এক বাক্যে রাজাকারদের ফাঁসি চাই, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নাই। আওয়ামীলীগ জানতো মানুষ ফাঁসির দাবি তুলবেই, তবে এটাও আমি নিশ্চিত তারাও ভাবেনি এত বড় সাড়া পরে যাবে শাহবাগে। জনতার দাবিতে বিল পাস হবে, রাষ্ট্র-পক্ষের আপিল করার ক্ষমতা হবে, হয়তো কাদের মোল্লা’র ফাসিঁও হবে। কিন্তু গ্যাঞ্জাম লেগে গেলো অন্য এক জায়গায়- আওয়ামীলীগ সরকার থাকা অবস্থায় যাদের শত্রু বলে ভাববে তাদের আমে মামলা করলে, সেই মামলায় খারিজ হলে, রাষ্ট্র পক্ষ আপিল করে তাদের একহাত নিতে পারবে। উদাহরণ দেই মনে করুন মির্জা ফকরুল কে দিয়ে। আওয়ামীলীগের শত্রু উনি। হরতাল বা কোনও একটা কেসে উনাকে যদি আদালত ক্ষমাও করে দেয়, রাষ্ট্র পক্ষ এখন আপিল করে বিষয়টা আরও ঘোলা করতে পারবে। মির্জা ফকরুলকে ঘোলাপানি খাওয়ালে আমার আপত্তি নাই, রাজনীতি করতে আসলে এইসব হবে জেনেই উনি এসেছেন। কিন্তু আমার আপত্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে একটা আইন ব্যবহার করলে। আরও আপত্তি ঢাকা বিভক্তির মত ফেরাউনি ডিসিশনে নয়, সচেতন দাবি করা একদল নাগরিকের দাবিতে এই আইন পাশ হলে। আমি বলছিনা আওয়ামীলীগ এমন কিছু করবেই, কিন্তু আমরা একটা অস্ত্র তৈরি করে দিলাম।
জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি: সে আমরা সবাই চাই। কিন্তু কথা বার্তা ছাড়া নিষিদ্ধ করাটা কতটা যুক্তি সম্মত। যারা ছাগু গন্ধ পাচ্ছেন তাদের বলছি যুক্তি শুনে ভাবুন। একথা দিবালোকের মত সত্য আওয়ামীলীগ একটি ভারতীয় মদদে পরিচালিত বাংলাদেশের লোকাল দল, বিএনপি কিছুটা পশ্চিমা, বাকিটা মধ্যপ্রাচ্যের মদয়ে পরিচালিত বাংলাদেশের লোকাল দল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামি একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশ্বের বহু দেশে তারা আছে, বেশ শক্ত অবস্থান। তাদের নেটওয়ার্ক সিআইএ’র চেয়ে কম নয়। জামায়াত চলে একটা মাল্টি-ন্যাশনাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্টাইলে। এখানে জবাই করা জায়েজ, কিন্তু তা করতে করতে বা পয়সা ছিটিয়ে কেউ নেতা হয়না। এই মানুষগুলোকে অনেক বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা হয়। এরা ছাত্রলীগের মত হিংস্র, তবে মাথায় অনেক বিশাল প্ল্যান। এরা টেন্ডার-বাজিতে ব্যস্ত না, কারণ এরা সুদূরপ্রসারী ধান্দায় থাকে। আপনি কি জানেন, এই মূহুর্তে ক্ষমতায় থেকে যখন ছাত্রলীগ খুন-চাঁদাবাজি-ধর্ষণে ব্যস্ত, ঠিক এই মূহুর্তে জামায়াতের সহায়তায় ৬০ হাজার ছাত্র যুক্তরাজ্যে আইন পরছে। গ্রাজুয়েশন শেষে বাংলাদেশে যখন ৬০০০০জন তুখোড় উকিল জামায়াতের পক্ষে কথা বলবে, তখন বিচার ব্যবস্থার মালিক হয়ে যাবে কে? খুজলি পাছড়ার মত ছাত্রলীগ রয়ে যাবে, আর সমাজে প্রবেশ করবে জামায়াত ক্যান্সার। জামায়াত অনেক কালো, অনেক বেশি ঠাণ্ডা মাথার শত্রু, একে আবেগ দিয়ে মোকাবেলা করতে পারবেন না।
জামায়াত কে নিষিদ্ধ করলে কি হতে পারে একটা ধারনা দেই। ৬০০ জনের দল হিজবুত তাহরীর যখন আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছে, সারা দেশে এখনও আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত। ভেবে দেখুন ৬০ লক্ষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিবির/জামাত কর্মি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলো। আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়া মাত্র জামায়াত আল-কায়েদার মত হিংস্র হয়ে যাবে এটা বলার কোন অবকাশ নেই, বিশ্বাস করুন এতদিন জামায়াত যা করেছে তা দুঃস্বপ্নের ক্ষুদ্রতম অংশ-মাত্র। তারা কিন্তু মাটির নিচে চলে যাবেনা, এরা আমাদের মাঝেই থাকবে। কেউ আপনার বাসার দারোয়ান, কেউ টং দোকানদার, কেউ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। আপনার জীবন তখন কতটা নিরাপদ? আপনি কিভাবে জানবেন আপনার বাচ্চাকে যেই স্কুলে দিয়ে আসেন, সেই স্কুলের কোনও শিক্ষক আজকে বুকে বোমা বেধে নিয়ে আসে নাই?
আওয়ামীলীগ, বিএনপি’র নেতারা সেলিব্রেটি স্টাইলে চললেও জামায়াতি নেতারা অনেক চালু। আমাকে বর্তমানের জামায়াতের নেতৃত্বের পাঁচজন ব্যক্তির নাম বলুন দেখি। আপনি জামায়াতি না হলে, বা সাংবাদিক না হলে বলতে পারবেন না। কারণ তারা তাদের পরিচয় চেঁচিয়ে দিয়ে বেড়ায় না। অথচ আমরা কারা সেটা সবাই জানেন। ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখলেই বুঝা যায় কার কি ধারনা। ঘটনা কি দাঁড়ালো? আমাদের সবাইকে ওরা চেনে, কিন্তু আমরা নিষিদ্ধ হবার আগেই জামাতকে চিনিনা, নিষিদ্ধ হলে আমরা সাধারণ মানুষ কই যাবো?
গেমটা এখানেই। জামায়াত যখন আল-কায়েদার মত দল হয়ে ধ্বংসযজ্ঞে মাতবে, আমি আপনি সবাই এত কিছুর পরও আওয়ামীলীগকেই ভোট দিতে বাধ্য থাকবো। বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশের মত জঙ্গিবাদ-পূর্ণ দেশ হয়ে যাবে। এক ঢিলে অনেক পাখি!
জামায়াতি মালিকানার প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্তের দাবি: শিক্ষিত অনেক মানুষই ভুল করে, অশিক্ষিত হলে তো কথাই নেই, জামায়াত ইসলাম আর ইসলাম ধর্মের পার্থক্য না বুঝে, শুধুমাত্র নুরানি বেশ দেখে অনেক মানুষ জামায়াতের অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করে, চিকিৎসা নেয়, ওদের কাছে কোচিং করে, ইত্যাদি। এইসব প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হাজার হাজার লোক সবাই জামাতি না। কেউ নিছক পেটের ধান্দায়। দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখা এইসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্তের নামে ধ্বংস করা হলে জিতবে কে? প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক কারণে যেখানে সারা পৃথিবী একবাক্যে বলছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল, তখন এই দেশের অর্থনীতি ঘুণে ধরলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা কার? উত্তর- পাশের দেশ ভারত।
ইমেজ ক্লিনিং ঃ আন্দোলনের প্রথমদিকেই আওয়ামীপন্থী একদল মানুষ সুকৌশলে ফেসবুক আর ব্লগের মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষের সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে দিলো, কেউ প্রশ্ন তুললেই সে ছাগু/রাজাকার। আস্তে আস্তে জোকস পেজগুলা বানাল “You know you are a chagu if..” তারপর মানুষ নিজের অজান্তেই বলতে থাকলো বেয়াই মোশাররফ, মখা, সাজেদা, ইত্যাদি সরকারি রাজাকার নিয়ে প্রশ্ন তোলাও ছাগু। তখন অনেকেই কথা বলা ছেড়ে দিয়েছেন। আন্দোলনে পক্ষের নিজেদের মধ্যেই সবারই বিভিন্ন মতামত থাকবে, তাদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরাসরি ছাগু উপাধি দিয়ে আন্দোলনের পক্ষের লোকজনকেই বিরূপ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়তা করতে লাগলো সবাই। কেউ বলেন নাই আন্দোলনটা বিচারাধীন রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে, বাকিদের বিচার পরের চ্যাপ্টারে। আওয়ামী ঘাগুরাও এটা বলেন নাই, কারণ এই চান্সে ইমেজ ক্লিন হবে, একই সাথে ফাঁসির দাবি চাওয়া এই মানুষগুলোকে ব্রেইনওয়াশ দিয়ে অন্যান্য পাখি ও মারা যাবে। একই সাথে যারা আন্দোলনের পক্ষেই, কিন্তু সাথে “কিন্তু, সাগর-রুনী, শেয়ার বাজার…” এই কিন্তুটা উচ্চারণ করেছেন, তো ছাগু হয়ে গ্যাছেন। সাগর-রুনীর বিচার চাওয়াটা ছাগু দের কাজ এই ধারণা এস্টাবলিশ করা এই কারণে ভবিষ্যতে কেউ এটা তুললে যেন সরকারের জবাব দিতে না হয়, ব্রেইনওয়াশ খাওয়া আপনার বন্ধুই আপনার সাথে ঘেউ ঘেউ জুড়ে দেবে।
পদ্মা সেতু ইস্যু: নিজেরা পদ্মা-সেতু তৈরি করবো ঘোষণা দেবার ঠিক কয়দিন পর যেন কাদের মোল্লার রায় দেয়া হল? বুদ্ধিজীবী/আতেলগন কথা শুরু করবার মত সময় পাবার আগেই। ফান্ড কোত্থেকে আসবে, কি হবে, কি শর্তে, কি লেনাদেনা ইত্যাদি প্রশ্ন তুলবার আগেই কাদের মোল্লার বিতর্কিত রায় ছুড়ে দেয়া হল, আমরা সবাই সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। এমন ব্যস্ত হয়ে গেলাম, যে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করাটা ছাগু/রাজাকারদের কাজ। ১৮ তারিখে প্রথম আলোতে ছোট্ট সংবাদ এসেছে পদ্মা-সেতু বাবদ কিছু টাকা ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে। সেই টাকা কি শর্তে, কেন, কিভাবে ফেরত, এইসব নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছেননা কেউ। কারণ, এর চেয়ে বড় ইস্যু আমাদের সামনে আছে, ২০ তারিখে বেলুন উড়াতে হবে। আর বাকিরা ভাবছেন এ নিয়ে কথা বলে কেন রাজাকার হবো? ৪২ বছর আগের বিচার আমাদের জাতিগত স্নান ফিরিয়ে আনার বিচার। কিন্তু এই মূহুর্তে একটা কিছু ঘটতে চলেছে, যা নিয়ে না ভাবলে আমরা “হয়ত” আগামী ৪২ বছর আফসোস করবো। আপনাকে গত সপ্তায়ে একজন চড় মেড়েছিল, আজকে বাগে পেয়ে তাকে প্যাঁদানি দিচ্ছেন, সেই সময় আপনার পকেট থেকে মোবাইল ফোন একজন নিয়ে যাচ্ছে। কোনটা করবেন আপনি? নিশ্চয়ই চোরকে মোবাইল নিয়ে যেতে দিবেন না, তাই বলে চড় খাবার প্রতিশোধও মাপ করতে বলছি না।
চরম আওয়ামী রক্ষক এবং দালাল সঙ্ঘ স্কাইপে’তে বেফাঁস কথা ফাঁস হয়ে যাবার পর অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করে সুবিধা করতে পারেনি তারা। অন্ধ কিছু লোক, আর অসচেতন কিছু মানুষ ছাড়া সবাই ধরে ফেলেছে ট্রাইব্যুনাল আসলে সরকারের বাতাসেই চলছে। এবার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় দিয়ে আওয়ামীলীগ প্রমাণ করার চেষ্টা করলো ট্রাইব্যুনাল বিতর্কিত নয়, স্বাধীন। আওয়ামীলীগ নিজেরাও অসন্তুষ্ট ভাব নিলো সেদিন। তারা জানতো মানুষ রাস্তায় নেমে পরবে, মানুষের কাঁধে বন্দুক রেখেই চাল চালা যাবে। তবে এটা এত বিশাল আন্দোলনে রূপ নেবে সেটা তারাও বুঝতে পারেনি বলে আমার ধারণা। , এর মধ্যেই আপনি নিশ্চিত যে আমি একজন পাক্কা ছাগু। সেই ছাগু আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আন্দোলনের ডাক যারা দিয়েছিলো, তারা সত্যিকার আদর্শ থেকেই দিয়েছিলো। তারা আন্দোলনে কারও ইশারায় যায়নি, কিন্তু কারও চালে গিয়েছিলো।
রায় হবার পর, প্রাথমিকভাবে কিছু বাম মনো-ভাবসম্পন্ন আর কিছু আওয়ামী ধারার ব্লগাররা সাথে কিছু সাধারণ মানুষ ডাক দিয়েছিলো এই প্রতিবাদের। আগেই বলেছি, প্রাথমিক পর্যায়ের ব্লগাররা প্রায় সবাই আদর্শগত কারনেই দিয়েছিও ডাক। অভূতপূর্ব সারা দিয়েছে মানুষ। বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। ফাঁসির দাবিতে একাত্ম হল সবাই। প্রথম দুই তিন দিন আওয়ামীলীগের লোকজন আন্দোলনে ব্র্যান্ডিং করতে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু দুই তিন দিনের মাথায় আন্দোলনের আবেগ মিইয়ে গেলো তার পিছনে মূল দায়ী উদ্যোক্তাদের কিছু বিষয়। জাগরণ-মঞ্চে প্রথম দিকে রাজনৈতিক মানুষদের বসতে দেয়া হলেও কথা বলতে দেয়া হতো না। ব্লগাররা সেলেব্রিটি হয়ে গেলো, এই টিভি সেই টিভি তে ইন্টারভিউ। আদর্শ থেকে টলে গেলো তারা, হয়তো খ্যাতির লোভেই। কিংবা কেউ হয়তো ভেবে বার করলো আগামীকাল আন্দোলন থেমে গেলে জামাতি-শিবিরের হাত থেকে বাঁচাবে কে?
আগেই বলেছি, ব্লগার’রা সাধারণত ভার্চুয়াল জগতের দাপুটে লোক, বাস্তবে নির্বিরোধী মানুষজন, রাস্তায় শিবিরের অতর্কিত হামলা প্রতিরোধ করা আসলে তাদের জন্য সম্ভব নয়। কিংবা এবার ছাত্রলীগকে ক্ষেপালে আগামীতে বিশ্বজিত হতে হবে হয়তো। আজ আন্দোলন চলছে, কিছু হবেনা, আন্দোলন শেষে কি হবে? তাই অনেকেই নিজের নিরাপত্তার জন্যই মঞ্চে নাজমুলের চ্যালাচামুন্ডাদের পাকাপোক্ত আস্তানা গাড়তে দিলো। আস্তে আস্তে আন্দোলনের হুংকার শোনা যায় লীগ-পন্থীদের কাছ থেকে, ড, ইমরান আর অমি রহমান পিয়ালদের আওয়ামী ব্লগারদের গলা বেড়ে যায়, সাধারণ ব্লগারদের গলা মিইয়ে গেলো। এর মধ্যে অমি রহমান পিয়াল ফেসবুকে স্বরূপ ধারণ করলেন, উনি প্রতিজ্ঞা নিলেন জয় বাংলা বলতে পারলে জয় বঙ্গবন্ধুও বলাবেন মানুষকে দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের এই স্লোগান যখন একটা দল প্রায় পেটেন্ট করে নিয়ে গিয়েছিলো, তখন এই জাগরণে মানুষ তা ফিরে পেয়ে অনেক বড় পাওয়া পেয়েছে। কিন্তু সাথে জয় বঙ্গবন্ধু ট্যাগ জুড়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটানোর এই সূক্ষ্ম প্রয়াসটা কিন্তু অনেকেই হজম করতে পারছে না। আস্তে আস্তে মুখোশ খোলা শুরু করলো সবার।
হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে আওয়ামীলীগের নেতা তোফায়েল সাহেব এসে রাজনৈতিক আবেশ আনার চেষ্টা করে। হৈ চৈ করে মাইক কেড়ে নেবার সময় লাকি আকতারের মাথায় পেছন থেকে মাথায় লাঠি মারা হয়। টিভি’তে চলে আসে তোফায়েলের আবির্ভাব, লাকি আক্তারের মাথায় লাঠির বাড়ির সংবাদ। টিভিতে আরও দেখা যায় একজন তরুন চিৎকার করে বলছে দরকার পরলে হাসিনাকে গদি ছাড়া করা হবে। একান্ত প্রাইভেটে উদ্যোক্তাদের মিটিঙ্গের পর, কোনও একটা জাদুমন্ত্র বলে সেদিন রাতে লাকি আক্তার নিজের মুখে বলে সে কাউকে দেখেনি ,মারতে। হাসিনার গদিছাড়া করার হুমকি দেয়া ছেলেটাও অবলীলায় বলে দেয় কে মেরেছে কেউ জানেনা। অন্ধ মানুষ কিছু না দেখলেও তখনই যাদের চোখ খোলা তারা কিছু ধরতে পেরেছিলো। তারা দুই ভাগ হয়ে গেলো, একভাগ বিশাল কন্সপিরেসিটা দেখতে পেলো। আর কেউ মার খাওয়া লাকিকে লীগকে বাচিয়ে দেয়াকে ভাবলো যে লাকিরা বৃহত্বর স্বার্থে মার খাবার বিষয়টা এড়িয়ে গেলো। এখনো কেউ ভাবে আসলে লাকিকে কি হুমকি দেয়া হয়েছিলো নাকি লোভ? নাকি মেয়েটা দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে ভেবে আওয়ামীলিগকে সেই যাত্রায় ছেড়ে দিয়েছিলো? তাই যদি হয় ঠিক এই মূহুর্তে আন্দোলনের স্বত্ব দলীয়করণ করার পর সেই লাকি কি ভাবছে?
প্রথম দিকে চাঁদা তুলে রুটি-কলা খেত আন্দোলনকারীরা। ২/৩দিনের মাথায় খাবার পানি আর বিরিয়ানি চলে আসতে লাগলো ভোববাজির মত। মানুষ আন্দোলন ফেলে খাবার লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে থাকে। মানুষতো রাজনীতিবিদদের মত নিমকহারাম না, পেটে আওয়ামীলীগের বিরিয়ানি নিয়ে কেউ আওয়ামীলীগের উপর ক্ষোভ রাখতে পারবে না। নিজের অজান্তেই তারা সফট হয়ে গেলো লীগের প্রতি। একটা রাজনৈতিক মিছিলে লোক আনতে বর্তমানে রেট নুন্যতম ২০০টাকা, যারা সাধারণত বস্তির ছেলেপিলে আর নিচু শ্রেণির গুণ্ডা হয়। আর এবার আওয়ামীলীগ ৬০ টাকার এক প্যাকেট বিরিয়ানি দিয়ে একজন শিক্ষিত ভদ্র পরিবারের মা-বোন-ভাই-শিশু পাইকারি কিনে নিলো। কি চমৎকার বিজয়!
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় দেখা গেলো আমরা জামাতিদের চাইনা (স্বভাবতই বিএনপিও চাইনা), আওয়ামীলীগ ক্লিন! উপরে উল্লেখিত সব পাখি আস্তে আস্তে মারা পরার পর আন্দোলনটা স্তিমিত করে দেয়ার প্ল্যান করা হল। আন্দোলনের প্রথমে বিষয়টা এতই জোয়ার ছিল, আওয়ামীলীগের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিলো সব। আস্তে আস্তে নাটাই ছেড়ে সুতা গুটানো শুরু করা হল।
প্রথমেই এ নিয়ে কথা বলার অবকাশ বন্ধ করা হল, উগ্র আওয়ামী কিছু মানুষ বিষয়টা সুক্ষভাবে অতি আবেগী অতি উৎসাহী মানুষের মধ্যে ফেসবুক আর ব্লগ দিয়ে নতুন ভাইরাস ছড়ালো। “কিন্তু বললেই ছাগু/রাজাকার”। একটা নেতৃত্ব-হীন আন্দোলনে সবাই বিক্ষিপ্তই থাকবে, স্বাভাবিক। কিন্তু একটা ভাইরাস ছড়ানো হল যে প্রশ্ন তুললেই রাজাকার। অতি আবেগি মানুষ এটাকেই আন্দোলনের দায়িত্ব ভাবা শুরু করলো। কথায় কথায় রাজাকার বলে আন্দোলনের সাথে নিজের একাত্মতার মাত্রা বুঝানোর চেষ্টা করলো। আন্দোলনের পক্ষের লোকেরাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে লাগলো। এতে লাভ হল কার? জামায়াতি দের, এবং আওয়ামীলীগ এর। জামাতিদের কেন, এটা বলার কিছু নাই। আওয়ামীলীগের লাভ হল, আন্দোলনের কন্ট্রোলটা হাতে আসলো, কারণ কথায় কথায় ছাগু/রাজাকার বলে বসার কালচারটাও আওয়ামীলীগের, যেভাবে মতের অমিলের জন্য জিয়াউর রহমান বা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি রাজাকার/যুদ্ধাপরাধী হয়েছেন, সেভাবেই মতের অমিলের জন্য ডানে বামে সবাই ছাগু/রাজাকার হয়ে গেলো। দমে গেলো কিছু মানুষ।
তারপর ঘোষণা এলো বসন্তে সবাই কালো পরবে। সবার চিন্তা ভাবনা আন্দোলন থেকে সরে উৎসবের দিকে ধাবমান। তারপর আবার ঘোষণা, না থাক হলুদ রঙ্গই থাকুক পোশাক। তারপর এলো ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ততদিনে শাহবাগের আন্দোলনের চেয়ে উৎসব বেড়ে গিয়েছিলো। সেলেব্রিটি, মিউজিসিয়ানরা এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, ফেসবুকে দেখানোর জন্য। আন্দোলনের চেয়ে উৎসব বেশি হয়ে গেলো। মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ নিঃসন্দেহে ভালো কাজ,যদি আন্দোলন ছাপিয়ে উৎসব না হয়ে যায়। তবে ছাগু মনের সরল প্রশ্ন, কিছুদিন আগে ইন্ডিয়াতে মোম জ্বালিয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিধায় আমাদের কি তাই করা হল?
তারপর প্রথম চাল, ফাঁসির দাবিতে আসা মানুষগুলোকে জামাত শিবিরের নিষিদ্ধ করার দাবি দেয়া হল। ক্ষুদ্রতম একটা অংশ এসেছিলো শুধু ফাঁসির দাবিতে, কাউকে নিষিদ্ধ করতে নয়। একটা ছোট দল সংগ্রাম থেকে সড়ে আসলো। ছোটবড় অনেক ঘটনা উপেক্ষা করে গেলে তারপরের চাল আন্দোলনের সময় বেধে দেয়া। ঘোষণা দিলেন কে? চরম আওয়ামীপন্থী ড. ইমরান। এতে অনেক বড় একটা অংশ উদ্যম হাড়ালো। উনি এখনও বলেন নাই কোন পয়েন্ট থেকে চিন্তা করে উনার উর্বর মস্তিষ্কে এই সময় বেধে আন্দোলন করার প্ল্যান আসলো। নাকি এটাই সত্যি যে কারও নির্দেশে উনি এই ঘোষণা দিতে গিয়েছেন? ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় ভড়কে গিয়ে রাতে আবার আগের কর্মসূচিতে ফেরত যেতে হয়েছে। বার বার কর্মসূচী ঘোষণা আর পরিবর্তন করে আমাদের কে কি না বোঝালে হতোনা যে আমাদের কর্মসূচি দেবার লোকগুলা নিজেরাই জানেনা কি করতে হবে?
যেই দিন ৪-২০টায় এ ইমরান সাহেব এই ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে পানি ঢালছেন, সেই একই মূহুর্তে মিরপুরে রাজীবকে হত্যা করে আন্দোলন দু’ভাগ করে দেয়া হল। আগেই বলেছি আমি ছাগু, তাই প্রশ্নটা তুলতেই পারি শিবির কবে থেকে ক্ষুর আর বোমা ছেড়ে ছাত্রলীগের মত কুড়াল-চাপাতি ধরল? যেখানে জামাত-শিবির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে, সেই সময় রাজীবের মত বিতর্কিত মানুষ খুন করে আখেরে কে বিপদ ডেকে আনবে? এক রাজীবের হত্যার ইস্যুতে আন্দোলনের পক্ষের লোকেরা বিভিন্ন সাব-ইস্যু ধরে আলাদা আলাদা দল হয়ে গেলো। একদল বলছে নাস্তিক মরায় খুশি, একদল ধর্মকে গালি দিচ্ছে। তারপর একদল জানাজা পরা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, আরেক দল অজু ছাড়া নাস্তিকের জানাজা পরে এসে প্রশ্নকারীকে রাজাকার বলছেন। একদল রাজীবের হত্যা সমর্থন করে, একদল তাকে ঘৃণা করার পর তার খুন হওয়া সমর্থন করে না। একদল তাকে শহীদের স্নান দেয়াটা অপমানজনক ভাবছেন, আরেকদল চাইছে রাজীব এর মত ঘৃণ্য মানের মানুষ ঘরে ঘরে জন্মাক। মোদ্দা-কথা, আন্দোলনের সব মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো।
এর মধ্যে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামীলীগের অত্যন্ত সিনিয়র একজন নেতা দাবি করে বসলেন এই তরুণেরা শেখ হাসিনা’র ডাকে সারা দিয়েছে। উনার মত একজন সিনিয়র নেতা গাঁজা খেয়ে কথা বলেন না, অনেক চিন্তা করে চলেন দেখেই উনারা এতদিন রাজনীতি বেচতে পেরেছেন। উনার করা এই দাবি যতদিন না অফিশিয়াল স্বীকৃতি পাবে, ততদিন আওয়ামীলীগের নেতারা এই দাবি করতেই থাকবেন। আমরাও কিছুদিন প্রতিবাদ করবো, এক সময় আমরা প্রতিবাদ করার রুচি হারাবো। যেভাবে তারা ১৯৭১ এর সোল এজেন্ট ছিল, এভাবেই তারা হাজার হাজার মানুষের আবেগ পুঁজি করে ২০১৩ এর ক্রিমটা খেয়ে নেবেন।
আন্দোলনের পুরাটা টাই জামাতিদের ভূমিকা ছিল একমাত্র সুখকর। জামাতিরা এরকম বিপদে ৪২ বছরে পড়েনি। আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য, তাদের তৈরি করা ইল্যুশন। মানুষ শিখে গ্যাছে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত হতে। ব্লগ আর ফেসবুক ভর্তি হাস্যকর ফটোশপের কাজ করে নিজেদের ইমেজ নিজের হাতে ধ্বংস করে ছারখার হয়ে গ্যাছে তারা। আন্দোলনে কিছু হোক বা না হোক, জামাতিদের মেরুদণ্ড সারাজীবনের জন্য গুড়িয়ে দেয়া যেতো, যদি সরকার সত্যিই চাইতো।
আওয়ামীলীগ কেন তাদের ফাঁসিতে ঝুলাবে না বলে আমার ধারনা, বলি। জামাতিদের নেতাদের যদি এই যাত্রায় লটকানো হয়, আওয়ামীলীগ জানে আজ হোক কাল হোক কোনভাবে, কারও লেজ ধরে ওরা ক্ষমতায় আসলে লীগের নেতাগুলোকে একটা একটা করে ধরা হবে। যদি ক্ষমতায় নাও আসে, জামাতের জঙ্গি কাণ্ডকারখানা সম্পর্কে আমাদের চেয়ে লীগ নেতারা বেশি সচেতন। জামাতিদের ঝুলাতে তারা নিজেরাও ভয় পাচ্ছে। তারপরও যদি অবশেষে কয়েকটাকে তারা ঝুলাতে পারে, তাইলে আমাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য কষ্ট না পেয়ে আনন্দিতই হবো।
আবেগী কর্মসূচী দেয়া হয়েছে বেলুনে করে চিঠি উড়ানোর। ভিকারুন্নিসা স্কুলে পড়ুয়া ক্লাস ফাইভের বাচ্চা মেয়েটির কাছে এই ধরনের আন্দোলনের অনেক ইমোশনাল ভ্যালু আছে, এ ছাড়া এই প্রতিবাদে কার কি হবে কেউ জানেনা। আবেগি মানুষের আবেগ নিয়ে একি তামাশা! আগামী কর্মসূচী খুব সম্ভবত শাহবাগে পিলো পাসিং খেলা হবে। প্রতিদিন এইসব ভণ্ডামি দেখে স্তিমিত হচ্ছে মানুষ। যতদিন না শাহবাগ আস্তে আস্তে মলিন হয়ে যাবে,ততদিন এসবই চলবে।
এত বিশাল নীলনকশায়, এই শাহবাগ একটা ছোট্ট অধ্যায় ছিল। প্রশ্ন হতে পারে, প্রায় আওয়ামীলীগের মানসিক ভারসাম্যহীন, বাচাল, অথর্ব মন্ত্রীসভা আর চামচা দিয়ে ভরা প্রেসেডিয়াম সদস্যদের মাথায় কি করে এত বড় প্ল্যান এলো? না, প্ল্যানটা আওয়ামীলীগের না। আওয়ামীলীগ বেতনভুক্ত কর্মচারী ছাড়া আর কিছু নয়। ঠাট্টার ছলে ওপার বাংলার মীর একবার বলেই ফেলেছিল “বাংলাদেশের মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা”। দুঃখজনক হলেও কথাটা কিন্তু সত্যি। উনারা দাদাদের দেয়া নির্দেশ পালন করে চলেছেন অক্লান্ত হয়ে। বিশাল এই কন্সপিরেসিতে পশ্চিমাদেশ গুলোও জড়িত। ভুলে যাবেন না, পশ্চিমা দেশের মানুষেরা ভারতকে যতই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করুক ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় “ভোক্তা-বাজার”। যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য কেউই তাদের এত বড় মার্কেট হারাতে চাইবেনা। রাজাকাররা যেমন আমাদের মা-বোন দের পাকিস্তানের কাছে ভেট দিতো, পশ্চিমারাও বাংলাদেশকে ভেট হিসাবে ভারতকেই দেবে। হিউম্যান রাইটস অনেক ঠুনকো ইলিউশন।
২১শে ফেব্রুয়ারীতে ৬ দফা দাবির কোথাও কি ফাঁসি চাওয়া বা ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি আছে? অথচ মানুষ জড় হয়েছিলো একটাই দাবিতে, ফাঁসি চেয়ে। অন্য দাবি চাইলে তাদের রাজাকার/ছাগু বলে দেয়া হয়েছে। এবারের আল্টিমেটামে সবার প্রথম দাবিটা বাদ দিয়ে নিজেদের স্বার্থের দাবি (না বুঝলে উপরের লেখাগুলো আরেকবার পরুন) চাওয়া লোকগুলো যদি নব্য মুক্তিযোদ্ধা হয়, তবে মুক্তিযুদ্ধই নোংরা হলো।
সবাই নিজেদের নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করছেন। নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার গুর্দা না থাকে, পুলিশের লাঠির ভয়ে শুধু বিরোধীদলের রাজাকারদের বিচারের দাবি করে, নব্য মুক্তিযোদ্ধারা যদি বেলুন উড়িয়ে মোম জ্বালিয়ে প্রহসনের প্রতিবাদ করে, তারা যদি মনে করে মুক্তিযোদ্ধা মানে লীগের দালালি করা, তবে সেই মুক্তিযোদ্ধা কোনও মায়ের কোলে যেনো না জন্মায়। একাত্তরে যারা জীবনের মায়া ছেড়ে হাজার ত্যাগ স্বীকার করে বাঘের মত ঝাপিয়ে পরেছিলেন, তাদের সাথে নিজেদের মত হীন, ছোট মানুষদের তুলনা করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করবেন না। এ ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।\
সবচেয়ে সুখকর বিষয়, এই পুরা বিষয়ে জামাতকে যেমনটা প্যাঁকে ফেলার প্ল্যান ছিলো, জামাত তারচেয়ে অনেক বেশি প্যাঁকে পরেছে। জামায়াত এর পেইড ব্লগাররা সবাই পয়েন্টেড, কালার্ড। ওদের প্রতিটা মিথ্যা চাল সাথে সাথে ধরা পরে যাচ্ছে। শাহবাগে বসা সাইবার টিম অনেক দুর্দান্ত খেল দেখিয়েছে এই বিষয়ে। প্রতি মূহুর্তে একটা দুইটা করে পেজ ডাউন করে দিচ্ছিলো তারা। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জনে আসলে তারাই সহায়তা করেছে, জাগরন মঞ্ছে দাঁড়ানো মিথ্যুক প্রতারক নেতা সেজে সময় নষ্ট করেনি। অনলাইনে শিবিরের কি পরিমান প্রভাব এইবারের আন্দোলনে প্রথম দিকে বোঝা গেলো, তারপর এই পুরা ক্ষমতা ধ্বংস হলো। শুধুমাত্র তাদের অন্ধ ফ্যান, আর সম্পূর্ন অশিক্ষিত নির্বোধ ছাড়া তাদের এইসব হাস্যকর কাঁচা ফটোশপ আর কাউকে বোকা বানাতে পারেনি। দেশের জাগ্রত প্রতিটা মানুষ দেখলো এই ঘৃণ্য ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে নিজেরাই নবীজি (সঃ)কে নিয়ে কটুক্তির প্রোপোগান্ডা শুরু করতে পারে। সবাই জানলো শিবির আসলে মেয়েদের ভয় পায়, তাই সব সমস্যা মেয়েদের নিয়ে। যত কুৎসিত তাদের চেতনা।
সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী র‍্যাবের বিশের মনিটরিং সেল ইন্টারেটে রাষ্ট্রিয় স্বার্থ রক্ষায় ফেসবুক সহ সব ব্যক্তিগত বিষয় মনিটর করছে। তার মানে হলো, কেউ ব্লগ লিখে পার পাবেনা। সামনের ইলেকশনের আগে সব কিছু নিয়ন্ত্রনে আনার উপায় এর চেয়ে আর ভালো কি হতে পারে? বউ বাচ্চা সংসার করা মানুষ আমিও ভয়ে পরিচয় লুকিয়ে রেখে এই ব্লগটা লিখছি এই কারণেই। আমি চাইনা বিশ্বজিত হতে। মহৎ মৃত্যু হবার উপায় থাকলে ভেবে দেখতাম। কিন্তু যদি মরতে হয় আওয়ামীলীগ নামের ঘৃণিত একদল লোভি হিংসুটে মানুষের হাতে, যদি জামাতিদের মত নোংরা ধর্ম ব্যবসায়ীর জন্য, আমি সেই মরণ চাইনা।
আমি ছাগু, কারণ আমি প্রশ্ন করি। আমি ছাগু কারণ আমি ভিন্ন ধারায় কথা বলি। আপনার মত অন্ধ বোবা কালা হবার চেয়ে কথা বলা ছাগু অনেক ভালো বলে আমার ধারনা। খালি আফসোস, আমি যেমন আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় গর্ব করতে পারি, আজকে থেকে ২০ বছর পর আমাদের সন্তান আমাদের নিয়ে লজ্জিত হবে। তারা বলবে “তোমরা গাধা ছিলা, তোমাদের আবেগ নিয়ে বারবার ব্যবসা হয়েছিলো”।