দুয়াঃ

 দুয়া মুমিনের অস্ত্রস্বরুপ । দুয়ায় ভাগ্য ফেরে, অভাব মোচন হয়, পাপ হতে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়, রহমত-বরকত-মাগফেরাত হাসিল হয় এবং সর্বোপরি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি মেলে । দুয়ার সঠিক নিয়ম-কানুন ও আদব কায়দা না জানার ফলে আমরা অনেকেই এবং অনেকাংশেই এইসকল ফল লাভে ব্যার্থ হই ।

 

দুয়ার কিছু আদব – অভ্যন্তরীণঃ

-    একমাত্র আল্লাহ্‌ই দুয়ার জবাব দেন

-    মনোযোগী অন্তর ও ইয়াকীন

-    আল্লাহ্‌ সম্পর্কে সুধারনা

-    ভয় ও আশা নিয়ে দুয়া করা

 

দুয়ার আদব – বাহ্যিকঃ

-    অযু করা

-    কিবলামুখি হওয়া

-    দুই হাত তোলা

-    চুপিসারে আকুতি-মিনতি করে দুয়া করা

-    আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও নবীর উপর দুরুদ পড়ে শুরু করা

-    শুরুতে ইস্তিগফার করা (গুনাহ স্বীকার করা ও ক্ষমা চাওয়া)

-    তাওয়াসসুল (আল্লাহ্‌র গুনবাচক নাম, কোন আমল, ঈমানের কথা এবং নবীর প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করা)

-    ক্রন্দন

-    সকল মুললিমদের জন্য দুয়া করা

-    সবসময়য় দুয়া করা

-    একমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট অভিযোগ করা (নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে, আল্লাহ্‌কে দোষারোপ করে নয়)

-    দুয়া কবুলের ফলাফল উল্লেখ করা

 

দুয়া কবুলের উপযোগী সময়ঃ

-    রাত্রীর শেষ তৃতীয়াংশ

-    আযানের সময়

-    আযানের জবাব দেয়ার পর

-    আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়

-    বৃষ্টিপাতের সময়

-    সালাতের সিজদায়

-    সালাতের শেষ বৈঠকে

-    যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হয় (যুদ্ধের সময়)

-    জুম্আর দিন একটি নির্দিষ্ট সময় (১ম প্রসিদ্ধ মতঃ জুম্আর আযান থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত । ২য় প্রসিদ্ধ মতঃ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত)

-    রাত্রীতে ঘুম ভাঙ্গলে

-    যমযমের পানি পানের সময়

-    রামাদান ও লাইলাতুল ক্বদর

-    হজ্জ ও ওমরাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় (সর্বোত্তম সময়ঃ আরাফার দিন)

 

যে সকল ব্যক্তির দুয়া কবুলের উপযোগীঃ

-    মাযলুমের দুয়া*

-    মুসাফিরের দুয়া

-    সন্তানের বিরুদ্ধে বা সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দুয়া (দাঁড়ি রাখা, হিজাব করা বা ইসলামের বিপরীত দুয়া কবুল হয় না)

-    পিতা-মাতার জন্য সন্তানের দুয়া

-    রোযাদারের দুয়া

-    হজ্জ, ওমরাহ্‌ ও জিহাদকারীর দুয়া

-    কোন মুসলিমের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুয়া

-    আল্লাহ্‌কে অধিক স্মরনকারীর দুয়া*

-    ন্যায়পরায়ন শাসকের দুয়া*

 

* এই ৩ প্রকার লোকের দুয়া কবুল হয় ।

 

দুয়া কবুলের পথে বাঁধাঃ

-    হারাম উপার্জন

-    কোন কোন গুনাহ (যেমনঃ ব্যাভিচারী নারীর দুয়া, অন্যায়ভাবে ট্যাক্স সংগ্রহকারীর দুয়া)

-    সৎকাজে আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ না করা

-    দুয়ার জবাব না পেয়ে হাল ছেড়ে দেয়া/তাড়াহুড়া করা

-    নিষিদ্ধ কিছু বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দুয়া

 

দুয়ার জবাব বিলম্বিত হওয়ার কারনঃ 

-    আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা, যা ইচ্ছা দেন

-    পরীক্ষা

-    হিকমত

-    কাংখিত বস্তু অকল্যাণকর হতে পারে

-    আল্লাহ্‌র নির্বাচন বান্দার নির্বাচনের চেয়ে উত্তম

-    নিজের সংশোধনের সুযোগ

-    আল্লাহ্‌ ৩ উপায়ে দুয়ার সাড়া দেন (১. সাথে সাথে দিবেন  ২. আখেরাতে বিনিময় দিবেন ৩. কোন বিপদ সরিয়ে দিবেন)

 

 

পরিশেষে, বিপদাপদ বা দূর্ঘটনা ঘটলেই তাতে হাহুতাশ করার কারণ নেই । কারণ, আমাদের জীবনে এমন ঘটনা ঘটে যা আমরা চাই না কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যেই আমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে । আবার অনেক সময় এমন কিছু আশা করি যার মধ্যে হয়ত কোন অকল্যাণ ও ক্ষতি অপেক্ষা করছে । আমরা কেউই ভবিষ্যত সম্পর্কে জানি না ।

 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমদের কাছে হয়তবা কোন একটা বিষয় পছন্দনীয় নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর । আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর । বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না ।” [সূরা বাকারা: ২১৬]

 

দুয়ার মানে এই নয় যে, আপনি যা পাচ্ছেন এর উসিলায় বরং এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক তৈরী হওয়া বা আরো নিবিড় হওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া ।

 

_______________________________________________________________________________________

এটি OIEP আয়োজিত সাপ্তাহিক হালাকা বা আলোচনার সারমর্ম (১৪/০৬/২০১৩)

ক্লাশে উপস্থিত থেকে Power Point Prestation ও আলোচনা থেকে নিজের জন্য সংগ্রহকৃত চুম্বক অংশ (কিছু নিজের কথা সহ) এবং এখানের ভুল-ত্রুটি একান্ত অনিচ্ছাপ্রসূত । যদি কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি কিংবা কমতির হয় তার জন্য আমি বৈ অন্য কেউ দায়ী নয় এবং এর জন্য আপনাদের কাছে ও মহান আল্লাহ্‌র কাছে বিনিতভাবে ক্ষমা আহ্বান করছি । আল্লাহ আমাদের সকলকে তার সন্তোষমূলক কাজ করার তাওফীক দান করুন এবং সকলকে হেদায়াতের উপর ইস্তেখামাত থাকার তাওফীক দান করুন । আমীন ।